বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন হচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে সারাদেশের কৃষকদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, কৃষকরা বছরে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, বিপণন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সমাবেশস্থল পরিদর্শনে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তারা অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্যেই কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কৃষকরা উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায্যমূল্য ও অধিকার পান।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় দিনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং দেশের কৃষকদের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি স্থানে ‘প্রি-পাইলটিং’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর পাইলটিং ও ধাপে ধাপে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এই কর্মসূচিকে ঘিরে টাঙ্গাইলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে। ঐতিহাসিক এই উদ্যোগের সূচনা টাঙ্গাইল থেকে হওয়ায় স্থানীয়রা গর্বিত।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে, যাতে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।