রাজবাড়ীতে পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে প্রবাসীর স্ত্রী সালমা বেগমকে (২৫) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হেমায়েত উল্লাহকে (২৫) নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব।
গ্রেপ্তার হেমায়েত উল্লাহ নোয়াখালীর চর জব্বর উপজেলার দক্ষিণ চর ক্লার্ক গ্রামের মো. আহসান উল্লাহর ছেলে।
নিহত সালমা বেগম হাউলি জয়পুর গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আজাদ মল্লিকের স্ত্রী। তাদের সাদিক নামে সাত বছর বয়সী এক ছেলে ও সিনহা নামে পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ রাত ১০টা থেকে পরের দিন ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে যে কোনো সময় হেমায়েত রাজাবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের হাউলি জয়পুর গ্রামের প্রবাসী মো. আজাদ মল্লিকের স্ত্রী সালমার ঘরে প্রবেশ করে সালমার গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় সালমার বাবা বাদী হয়ে ওই দিনই রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর গতকাল বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি শনাক্ত করে রাজবাড়ী সদর থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নোয়াখালীর চর জব্বার থানা পুলিশের সহায়তায় চর জব্বার থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি হেমায়েত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শরীফ আল রাজীব বলেন, সালমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সালমার সঙ্গে আসামি হেমায়েতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয়। এরপর সালমা ঢাকায় থাকা অবস্থায় তাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে। সালমা রাজবাড়ীতে চলে আসলেও হেমায়েতের নিয়মিত যাতায়াত ছিল রাজবাড়ীতে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়। মূলত পরকীয়ার সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে সালমাকে হত্যা করা হয়।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোছা. শামিমা পারভীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হেমায়েত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিম সালমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী নূরপুর গ্রামের জনৈক কৃষ্ণ হালদারের পুকুর থেকে উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে। আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।