ঈদ শেষে পদ্মা সেতু পথে ঢাকামুখী মানুষের চাপ, তবুও স্বস্তির যাত্রা
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লাখো মানুষ। পদ্মা সেতু এবং ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে রাজধানীমুখী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও কোথাও কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি। ফলে নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা উপভোগ করছেন যাত্রীরা।
রোববার (৩১ মে) সকাল থেকেই পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং দূরপাল্লার গণপরিবহনে করে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।
সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় আগামী সোমবার থেকে অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কার্যক্রম শুরু হবে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে অনেকেই একদিন আগেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, এবারের ঈদযাত্রাও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেমন স্বস্তিদায়ক ছিল, তেমনি ঈদ শেষে ফেরার পথেও কোনো বড় ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়নি যাত্রীদের।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা ও এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক ছিল। গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত নিয়মে টোল পরিশোধ করে দ্রুত সেতু পার হয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে।
অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, অতীতের তুলনায় এবার যাত্রা অনেক সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে। দীর্ঘ যানজট কিংবা ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার দুর্ভোগ ছাড়াই তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর পথে পৌঁছাতে পারছেন।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউর হায়দার জানান, ঈদের ছুটি শেষ হয়ে কর্মদিবস শুরু হওয়ার কারণে রোববার সকাল থেকেই ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে পদ্মা সেতু, টোল প্লাজা কিংবা এক্সপ্রেসওয়ের কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি।
তিনি বলেন, “গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে টোল দিয়ে পদ্মা সেতু পার হচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকামুখী যানবাহনের সংখ্যা আরও বাড়লেও পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের সক্ষমতার কারণে বড় ধরনের কোনো যানজটের আশঙ্কা নেই।
ঈদের আনন্দ শেষে কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরার এই যাত্রা স্বস্তিদায়ক হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। পদ্মা সেতুর সুফল হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, এবারের ঈদ-পরবর্তী যাত্রাও তার আরেকটি সফল উদাহরণ হয়ে থাকল।