বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরা শুরু

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ রোববার (১ মার্চ) থেকে সুন্দরবনে আবারও শুরু হয়েছে কাঁকড়া আহরণ। বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে আজ থেকে উপকূলের জেলেরা নদী-খালে নামতে শুরু করেছেন। এতে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি ও কর্মচাঞ্চল্য।

সুন্দরবন সংলগ্ন হরিনগর ও বুড়িগোয়ালিনী জেলেপাড়ায় দেখা যায়, জেলেরা নৌকায় কাঁকড়া ধরার খাঁচা, দোন-দড়ি ও জাল তুলছেন। কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন, কেউ বাজার-সদাই গুছিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরায় সবার মধ্যেই ছিল নতুন উদ্দীপনা।

হরিনগর গ্রামের জেলে অরুন মণ্ডল বলেন, দুই মাস আয়-রোজগার বন্ধ ছিল। সংসার চালাতে মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। এখন কাঁকড়া ধরতে পারলে ঋণ শোধ করে ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

বুড়িগোয়ালিনীর জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় দিনমজুরি করেছি কিন্তু তাতে সংসার ঠিকমতো চলেনি। আজ ভোরেই পাস নিয়ে নদীতে নেমেছি। ভালো কাঁকড়া পেলে আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় মোট ২ হাজার ৯০০টি নৌকার সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতিপত্র রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি নৌকা কাঁকড়া আহরণের জন্য নিবন্ধিত। বৈধ পাস-পারমিটধারী প্রায় ১৫ হাজার জেলে সুন্দরবনের নির্ধারিত নদী ও খালে কাঁকড়া আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান বলেন, প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে কাঁকড়া ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফুটে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় দুই মাস আহরণ বন্ধ রাখা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে কাঁকড়া ধরার ঘটনায় ২৫ থেকে ৩০টি মামলা করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।