বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচন ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল, গাবতলীতে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাজধানী ছাড়ছেন অসংখ্য মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা চার দিনের ছুটি। ফলে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

সকাল থেকেই টার্মিনালজুড়ে পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাক, কাউন্টারগুলোতে টিকিট কাটার ব্যস্ততা এবং যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। বাসের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

যশোর-খুলনাগামী ঈগল পরিবহনের এক কাউন্টার ম্যানেজার জানান, গত রাত পর্যন্ত যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল। আজ ভিড় কিছুটা কম হলেও যাত্রীদের যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে। একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন মাগুরা-ঝিনাইদহগামী উত্তরা পরিবহনের কর্মী আলামিন। তার ভাষ্য, বাসের কোনো সংকট নেই।

বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ

তবে বাসের ঘাটতি না থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। মাছকান্দিগামী রয়্যাল পরিবহনের যাত্রী মো. আশিক বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ৪০০ টাকা, সেখানে আজ নেওয়া হয়েছে ৫০০ টাকা। কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক জবাব পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কুষ্টিয়াগামী জামান পরিবহনের যাত্রী সেলিম মিয়া জানান, আগে ৪৫০ টাকায় যেতেন, কিন্তু আজ ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। তার দাবি, কাউন্টারে সবার কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন কর্তৃপক্ষের যুক্তি

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, ঢাকা থেকে বাস পূর্ণ যাত্রী নিয়ে গেলেও ফেরার পথে অধিকাংশ সময় বাস খালি আসছে। এতে জ্বালানি, টোল ও শ্রমিকদের বেতনসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

রয়্যাল পরিবহনের এক টিকিট বিক্রেতা বলেন, “ঢাকা থেকে বাস ভরে গেলেও ফেরার পথে যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। খরচ তুলতেই কিছুটা বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।” জামান পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাকও একই যুক্তি তুলে ধরে বলেন, পরিচালন ব্যয় অপরিবর্তিত থাকায় ভাড়া সামান্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নির্বাচন ও টানা ছুটি ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ অব্যাহত থাকায় গাবতলী টার্মিনালে আগামী দিনগুলোতেও ভিড় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীরা ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।