বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচন এলেই সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ে: হিন্দু মহাজোটের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশে জাতীয় নির্বাচন সামনে এলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে— এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুটপাটের মতো সহিংস ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল, বসতবাড়ি, মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে মহাজোট। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের সুরক্ষায় সাত দফা প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনই হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন এলেই হিন্দুদের ঘরবাড়ি, মঠ-মন্দির, প্রতিমা ও নারীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়ে যায়। আসন্ন নির্বাচনকেও ঘিরে একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তার ভাষায়, সংখ্যালঘু নির্যাতন দেশে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা এবং পরাজয়ের অজুহাতে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রতিশোধমূলক আক্রমণের প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অতীতে যেসব প্রার্থী বা রাজনৈতিক কর্মী সংখ্যালঘু নির্যাতনে জড়িত ছিলেন বা এ ধরনের সহিংসতায় উসকানি দিয়েছেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সরস্বতী পূজার দিনে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা স্থগিত রাখার দাবিও জানায় হিন্দু মহাজোট।

পলাশ কান্তি দে জানান, সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে ১০ দিন পর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচার নিষিদ্ধ, ধর্মের অপব্যবহার বন্ধ, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসনের ভোট স্থগিত ও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশন ও প্রতিটি জেলায় সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনিটরিং সেল গঠন এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোট দিয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিসি রায় ও জগন্নাথ হালদার, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল মণ্ডলসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।