আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ, সহিংসতামুক্ত এবং সমান ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন সিটিজেন ফর হিউম্যান রাইটস।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার, আইন ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—
এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, এবং ব্লাস্টের অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মাহবুবা আক্তারসহ আরও অনেকে।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়া বাংলাদেশে একটি পুনরাবৃত্ত বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থি এবং অন্যদিকে সকল নাগরিকের সমান অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সহিংসতা ও ভয়ভীতির ঘটনা ঘটছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—
-
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ ও কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া এবং বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন।
-
রাউজান ও মিরসরাইসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত সব সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
-
ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ।
-
সহিংসতায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর সদস্যদের মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান।
-
নবগঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বিষয়টি অগ্রাধিকারভিত্তিতে নজরদারিতে রাখা এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হতে পারে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তারা।