বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনী দায়িত্বে বেইমানি চলবে না: চট্টগ্রাম ডিসি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শতভাগ সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলার ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা ও দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বহু রক্তের বিনিময়ে দেশ আজকের অবস্থানে এসেছে। এই রক্তের ক্ষত মেরামতের সময়ে কোনোভাবেই বিবেক বিক্রি মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনের পবিত্র দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বেইমানি সহ্য করা হবে না।”

ডিসি জাহিদুল ইসলাম প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ভোট গ্রহণের দিন নিজের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ এই দেশেই তাদের সন্তান ভবিষ্যতে বড় হবে। আজকের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন দেশ রেখে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব বা শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। এবারের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সুরক্ষা অ্যাপ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ভোটারদের সচেতন করার জন্য ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের গণভোট সংক্রান্ত বিধি-বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার বা বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনো দলের প্রতি ভালোবাসা থাকতে পারে, তবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় তা প্রকাশ করা যাবে না। ভালোবাসা থাকতে হবে কেবল রাষ্ট্র ও নিজের সাংবিধানিক দায়িত্বের প্রতি।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ৯ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির উপ-অধিনায়ক, আনসার ও ভিডিপির পরিচালক ও জেলা কমান্ড্যান্ট, এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাতকানিয়া উপজেলার ১২৬ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭১০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৪২০ জন পোলিং অফিসার অংশ নেন। প্রশিক্ষণে ভোটগ্রহণ আইন, দায়িত্ব ও কর্তব্য, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, ব্যালট ও গণভোট পদ্ধতি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।