বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ, অতিরিক্ত ভাড়া রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বন্ধ এবং যাত্রী নিরাপত্তা জোরদারে ১২ দফা সুপারিশও দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (৯ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রা করবেন। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে আন্তঃজেলায় প্রায় চার কোটি মানুষ চলাচল করবেন। অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত গণপরিবহন দেশে নেই। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রা করতে পারেন।

এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির পাশাপাশি নিরাপদ যানবাহন বাড়ানো এবং যাত্রীদের সচেতন করা জরুরি বলে মনে করছে সংগঠনটি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকারকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত করে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো, এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের পরিবহন ব্যবস্থাকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা।

এ ছাড়া ত্রুটিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, সিটি সার্ভিস বাসের মহাসড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সড়ক পরিবহনে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রাতের বাসে ডাকাতি ঠেকাতে পুলিশি টহল জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পিড ব্রেকার ও সাইন-মার্কিং নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ঘরমুখো ও ফিরতি যাত্রা—উভয় সময়েই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

এ ছাড়া দীর্ঘ পথযাত্রায় যাত্রীদের সুবিধার জন্য মহাসড়কে মোবাইল টয়লেট স্থাপন এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় দেশের সব হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা জোরদারেরও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অনেকটাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করা সম্ভব হবে।