নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়িয়ে পরিবারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় গিয়ে সুবিধাভোগী নারীদের হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।
কী থাকছে ফ্যামিলি কার্ডে?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়, অসচ্ছল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে
- অর্থ সরাসরি মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে
- নারীদের হাতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে পরিবারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে
নারীর হাতে অর্থ, বদলাবে পরিবার
সরকারের দাবি, নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিলে তা পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
👥ব্যাপক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আশপাশের ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে।
অন্যান্য কর্মসূচিও উদ্বোধন
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনেরও উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি বাগবাড়ী এলাকায় একটি খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি শুধু একটি ভাতা কর্মসূচি নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।