বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নানক-তাপসসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

চব্বিশ জুলাই অভ্যুত্থানে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা উসকানি ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিরীহ মানুষদের ওপর গুলি চালান, যার ফলে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর তথ্য আছে।

আসামিদের মধ্যে অন্যতম সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন চারজন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।

অভিযোগ পড়ার পর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে। পলাতক আসামিদের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং আগামী ২৯ জানুয়ারি হাজিরার দিন ধার্য করা হয়েছে।