নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। পুলিশের অভিযানের মুখে এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীরা যমুনার সামনের এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশি অভিযানের সময় ৪ থেকে ৫ জন আন্দোলনকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর থেকে আসা আন্দোলনকারীরাও রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে তারা ঘোষণা দিয়ে যমুনার অভিমুখে মিছিল শুরু করেন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে সেখানে প্রথম দফায় পুলিশি বাধার মুখে পড়েন তারা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তখন লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালানো হয়।
পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছান। সেখানে তারা সড়কে বসে পড়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলা সাড়ে ১১টার পর ঘটনাস্থলে আরও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবির সদস্যদেরও সেখানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
প্রথমে পুলিশ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান ব্যবহার করা হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেয় এবং একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারী আব্দুল মালেক বলেন,
“আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ন্যায্য দাবি জানাতেই এখানে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাদের ওপর টিয়ারশেল ও গ্রেনেড ছোড়া হলো।”
আরেক আন্দোলনকারী শারমিন আক্তার বলেন,
“আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী। আজ আমাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে, তাতে আমরা অপমানিত। দাবি জানাতে এলে যদি লাঠিচার্জ আর গ্রেনেডের মুখে পড়তে হয়, তাহলে কথা বলার জায়গা কোথায়?”
দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।