নওগাঁর পত্নীতলায় ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নিজস্ব অর্থায়নে একটি জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার নজিপুর-মাতাজি সড়ক সংলগ্ন ঘোষনগর ইউনিয়নের নোধূনী ব্রিজ ও নোধূনী বাজার থেকে খিরসীন কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার ভরাট হয়ে যাওয়া খাড়ি (খাল) পুনর্খননের কাজ শুরু হয়েছে। গত তিন দিন ধরে পুরোদমে চলছে এই খনন কর্মসূচি।
এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর হতে চলেছে স্থানীয় কৃষকদের। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়ক সংলগ্ন এই ২ কিলোমিটার খাড়ি খনন সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় ২০০ কৃষকের আনুমানিক ১ হাজার বিঘা জমিতে নিরবচ্ছিন্ন চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইউনিয়ন পরিষদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও কৃষকেরা।
খাড়ি খননের কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নজিপুর-মাতাজি সড়কের পাশে নোধূনী ব্রিজ এলাকা থেকে খিরসীন ক্লিনিক পর্যন্ত খাড়িটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষাকালে যেমন জলাবদ্ধতা তৈরি হতো, তেমনি শুকনো মৌসুমে আমরা সেচের পানির তীব্র সংকটে ভুগতাম। ১ হাজার বিঘা জমির আবাদ নিয়ে আমাদের সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এবার এই প্রায় ২ কিলোমিটার খাড়িটি খনন করার ফলে আমাদের সেই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হতে চলেছে। এখন আমরা অনায়াসে জমিতে চাষাবাদ করতে পারব।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কামরুজ্জামান মিল্টন বলেন, এলাকার কৃষকদের জন্য এই খাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নজিপুর-মাতাজি সড়ক সংলগ্ন নোধূনী ব্রিজ ও বাজার থেকে খিরসীন কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত এই অংশটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই কষ্ট লাঘবের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, খনন কাজ শেষ হলে এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ঘোষনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক এবং উপজেলা বিআরডিবি (পল্লী উন্নয়ন) কর্মকর্তা প্রল্লাদ কুন্ডু বলেন, “নজিপুর-মাতাজি সড়ক সংলগ্ন এই খাড়িটি খননের জন্য স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং তাদের দাবির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে আমরা এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগটি গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিবান্ধব এই কর্মসূচিটি গত তিন দিন ধরে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্যই হলো স্থানীয় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। এই প্রায় ২ কিলোমিটার খাড়ি খননের ফলে প্রায় ২০০ কৃষকের ১ হাজার বিঘা জমি সরাসরি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। জনগণের কল্যাণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।