বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে দোষারোপ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নওগাঁয় জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে দোষারোপ

নওগাঁয় জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই দল। পৃথক সংবাদ সম্মেলনে সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন জামায়াত ও বিএনপির নেতারা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় নওগাঁ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা শেষে প্রকাশ্যে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা গ্রামবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন।

আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু আরও বলেন, ‘নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা আড়াল করতেই নিরীহ মানুষ ও আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াতে ইসলাম পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।’

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। একই সঙ্গে জামায়াতের পক্ষ থেকে নওগাঁয় আমিরে জামায়াতের সমাবেশ পণ্ড করার হুমকির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের দয়ালের মোড়ে পৌর জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের জামায়াত প্রার্থী আ স ম সায়েম। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে গণসংযোগ শেষে সদর উপজেলার গোপাই মাখনা গ্রামে এক কর্মীর বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক বাড়ির ছবি তুলতে এবং ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, ‘আমার কর্মীরা বাধা দিলে তারা নিজেদের জামায়াতের কর্মী বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু স্থানীয়রা জানায়, তারা ওই এলাকার কেউ নন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।’

আ স ম সায়েম আরও অভিযোগ করেন, পুলিশকে জানানো হলেও তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করে এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আসে। তিনি দাবি করেন, পুলিশের সামনেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে মুস্তাফিজ নামে এক কর্মী গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আমিরে জামায়াতের আগমন ঘিরে কর্মসূচি ব্যর্থ করতেই এই সহিংসতা।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে জামায়াত ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।