একীভূত করা পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে। পরে সেটি হিসাব-নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পাঁচ ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলেছি। এখন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব। গভর্নরও তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা নিশ্চিত করেছি যে যারা ডিপোজিটর, যাদের টাকা আছে, তারা অবশ্যই পাবেন। আর শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টি কিছুটা টেকনিক্যাল।”
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেগেটিভ হয়ে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া জটিল। কারিগরি কারণে বলা হয়, তারা শেয়ার কিনেছে, তাই দেওয়া কেন। তিনি উল্লেখ করেন, “তবু আমি বলেছি, তারা হয়তো বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছে। দেখা যাক কতটুকু করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে তা নিয়ে কাজ চলছে। পরবর্তী অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নেতিবাচক হলে পুরো দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপানো যৌক্তিক নয়।
শেয়ারহোল্ডারদের আংশিক বা পুরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, মডেল তৈরি করতে কিছুটা সময় লাগবে। ধরুন কেউ বড় পরিমাণে শেয়ার কিনেছেন, তাকে আংশিক শেয়ার বা বাকিটুকু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। কারণ পুরো বোঝা শেয়ারহোল্ডাররা একবারে নিতে পারবেন না।
বাংক খাতের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, এককালীন সিদ্ধান্তে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরই থাকবে। ইকুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। চলমান উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে ব্যাংক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।