বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ করা নিয়ে বিতর্ক, ইসির বিরুদ্ধে সংবিধান ও আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন মামুন হাওলাদার নামে এক সচেতন নাগরিক।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো বিদেশি নাগরিক বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকত্ব সম্পূর্ণভাবে ত্যাগের পরই কেউ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনের যোগ্যতা অর্জন করেন।

মামুন হাওলাদার তার আবেদনে হাইকোর্ট বিভাগের ১৬৪৬৩/২০২৩ নম্বর রিট পিটিশনের আদেশের কথা উল্লেখ করে বলেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন গৃহীত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবেন। কেবল নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন দাখিল করাকে যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এই আদেশ বর্তমানে আপিল বিভাগেও বহাল রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীদের কাছ থেকে শুধুমাত্র একটি অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করছে। যেখানে প্রার্থীরা উল্লেখ করছেন যে তারা বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এই অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতেই কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করছে, যা সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনার সরাসরি পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়।

এছাড়া আবেদনকারী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে দেওয়া আপিল আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন গ্রহণ করছে, অথচ বিদ্যমান আইন ও বিধিমালায় কমিশনের এমন পুনর্বিবেচনার কোনো স্পষ্ট আইনগত এখতিয়ার নেই।

আবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো দ্বৈত নাগরিকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলে তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও সাংবিধানিক শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।