সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় রিফাইনারি স্থাপন না হওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে। ফলে আমদানি নির্ভরতা বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এর ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪–৫৫ বছর পার হলেও এখনো দেশের একমাত্র রিফাইনারি হিসেবে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড সীমিত পরিমাণ জ্বালানি পরিশোধন করতে পারে। ফলে চাহিদার বড় অংশই উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি—জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ে।
প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য প্রধানত সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটকে তিনি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর সমাধানে সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।”
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কোর্স পরিচালনা করবে এবং অংশগ্রহণকারীরা অর্জিত জ্ঞান দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় কাজে লাগাবে।
এ বছরের তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।