বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আবারও তেঁতুলিয়ায়, বাড়ছে শীতের দাপট

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার স্থান হিসেবে আবারও নাম লিখিয়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়া। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলে শীতের আমেজ দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৬১ শতাংশ।

তবে আশ্চর্যের বিষয়—ঘন কুয়াশা না থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে শীতের অনুভূতি যেন আরও প্রকট। তেঁতুলিয়া, দেবীগঞ্জ, বোদা, আটোয়ারী ও পঞ্চগড় সদরসহ পুরো জেলায় এখন ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত মানুষজন কাঁপন ধরানো ঠান্ডা অনুভব করছেন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদিও সূর্যের দেখা মিলছে, তবে তার উষ্ণতা শীতের দাপটকে খুব একটা কমাতে পারছে না। হিমেল বাতাস মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অনেকটাই ধীর করে দিচ্ছে।

গত ছয় দিন ধরেই দিন-রাতের তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
বুধবার রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি,
মঙ্গলবার ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি,
সোমবার ১৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি,
রোববার ১৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি,
শনিবার ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি,
এবং শুক্রবার ছিল ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা কয়েক দিনের এই স্থিতিশীল শীতের পর আজ তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি ঘরে নেমে আসায় স্থানীয়দের মাঝে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষায়—
কালিয়াগঞ্জের দিনমজুর আনারুল জানান, “ভোরে কুয়াশা না থাকলেও খুব ঠান্ডা লাগে। রোদ উঠলে ভালো লাগে, কিন্তু সন্ধ্যার পর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়।”
অন্যদিকে চাকলাহাটের বাসিন্দা শহিদুল্লাহ বলেন, “ভোরে মাঠে গেলে হাত-পা জমে আসে। রোদ উঠলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, তবে সকাল পর্যন্ত বেশ ঠান্ডা লাগে।”

শীত বাড়তে থাকায় গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত মানুষের পোশাকে এসেছে পরিবর্তন। বাজারে এখন জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা—কম্বল, সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার সবকিছুর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে চা, কফি, আদা-লেবুর চায়ের দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা যাচ্ছে সকাল-বিকেল জুড়ে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানালেন, “গত কয়েক দিন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি ছিল। আজ তা কমে ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, কুয়াশা না থাকলেও বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় মানুষ শীত বেশি অনুভব করছেন।

এদিকে শীতের এই আগাম উপস্থিতি স্থানীয় কৃষক ও দিনমজুরদের দৈনন্দিন কাজে চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও, যারা শীত উপভোগ করতে ভালোবাসেন তাদের মুখে ফুটিয়েছে হাসি। তবে সম্ভাব্য শৈত্যপ্রবাহের আগাম ইঙ্গিত থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা।