বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দেশীয় মাছের বহু প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, গবেষণা ও সংরক্ষণে জোর দেওয়ার আহ্বান মন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ে থাকা বহু দেশীয় মাছের প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীতে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, দেশের মৎস্যখাতে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও সেই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন, সরকার তাদের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখনো একটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র গবেষণা-ধারা গড়ে ওঠেনি। গবেষণার দৃশ্যমান ফলাফল এবং নিজস্ব জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গবেষণাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাছ চাষে পানির গুণগতমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয়ের পরিবেশ মাছের উপযোগী রাখা গেলে রোগবালাই উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানী, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণের জন্য ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়। মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণে মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।