বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দৃষ্টিহীন হয়েও আজান থামেনি—নাটোরের শতবর্ষী মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমানের ইন্তেকাল

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

নাটোরের বড়াইগ্রামে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মানুরাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দৃষ্টিহীন মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স আনুমানিক ১২০ বছর হয়েছিল।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান মোল্লা। তবে শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা তার মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দৃষ্টি হারানোর ছয় বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে সেই জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন।

মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিজেই সেখানে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি না থাকায় বাড়ি থেকে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যাতায়াত ছিল তার জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বাবার এই কষ্ট লাঘবে তার সন্তানেরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ পুঁতে দড়ি বেঁধে দেন, যাতে তিনি সহজে পথ চিনতে পারেন।

প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে পথটি চিনিয়ে দিলেও পরবর্তীতে আর কারও সহায়তা নিতে হয়নি তাকে। লাঠি ঠুকে ও দড়ি ধরে নিজেই নিয়মিত মসজিদে যেতেন এবং আজান দিতেন।

তার এই অনন্য সংগ্রাম ও ধর্মনিষ্ঠা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচিত ছিল। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন, যা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।