বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জাল কাগজে ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকরিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক **প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার)**সহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে **৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে ১২টি মামলা দায়ের করেছে।

মামলাগুলো ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দায়ের করা হয়। উপ পরিচালক মো. মশিউর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন মামলাগুলো দায়ের করেন।


মামলার অভিযোগের সারমর্ম

  • আসামিরা কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ তৈরি করে প্রতিটি ঋণ হিসাবের ১-২টি কিস্তি পরিশোধ করেছেন, কিন্তু অনেক ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ হয়নি।
  • এই ঋণগুলো বোর্ড সভায় কোনো আপত্তি ছাড়াই রিসিডিইল করা হয়েছে।
  • প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে।
  • প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা যাচাই করলে দেখা গেছে, সেখানে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কার্যকর নেই

প্রধান আসামিরা:

  • পিকে হালদার – এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও আইএলএফএসএলের সাবেক এমডি
  • মো. ছিদ্দিকুর রহমান – এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান
  • মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, আব্দুল মোতালিব আহমেদ
  • এছাড়া আরও ৩০ জনসহ মোট ৩৫ জন

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


পিকে হালদারের পটভূমি:

  • পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
  • ২০২১ সালের শুরুতে দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ভারতে পলায়ন করেন।
  • পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার অশোক নগর থেকে পিকে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে।