স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজকে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) স্পেনের আদালত এ নির্দেশনা জারি করে। আদালতের বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাতো গোমেজকে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে দুবার আদালতে হাজিরা দেওয়ার আদেশ দেন।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়েছে, গোমেজ যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য স্পেনের সব সীমান্ত চৌকি, বেসামরিক ও সামরিক বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে।
রাজনৈতিকভাবে আলোচিত এই মামলার বিচার শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। গত এপ্রিলে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যবসায়িক লেনদেনে দুর্নীতি এবং সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে মাদ্রিদের কমপ্লুটেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি ও পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন। সেই পদে তিনি সহ-পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের জন্য সরকারি সম্পদ ও প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে বেগোনা গোমেজ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার মতে, বিরোধী ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সরকারকে দুর্বল করতে এই মামলাকে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এ ঘটনাকে গুরুতর দুর্নীতির ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের পদত্যাগ দাবি করেছে।