বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দুদকের মামলায় পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

 ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতি করে ঋণ আত্মসাৎ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন এবং সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান হাফিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


মামলার অন্যান্য আসামি ও অবস্থান

অভিযোগভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন:

  • এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ

  • ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস

  • রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লি (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি) সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না

  • মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন

মামলার সময়, কারাগারে থাকা নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তারা শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি।

নাহিদা রুনাইয়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খোরশেদ মিয়া আলম জানান, তার মক্কেল কোনোভাবে ঋণের অনুমোদন বা বিতরণে জড়িত নয়, শুধুমাত্র ছোট চাকরি পালন করছিলেন। রাশেদুল হকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, তার মক্কেল শেয়ারহোল্ডার বা অতিরিক্ত লাভপ্রাপ্ত নন, তাই তারও অব্যাহতির দাবি করা হয়েছে।


অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং নামে প্রতিষ্ঠানের নামে ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন ও ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর বিতরণ করেন। ওই টাকা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড-এ স্থানান্তরিত হয়।

মামলাটি গত বছরের ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ১৬ অক্টোবর আদালতে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ১১ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলা বিচারের জন্য বিশেষ জজ-৯ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।