বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঢাকার বাইরে: সিলেটে তারেক রহমানের প্রথম জনসভা, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে অধীর আগ্রহ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। দেশে ফিরে ঢাকার বাইরে এটি তার প্রথম জনসভা, যা দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সিলেটবাসী প্রিয় নেতাকে সরাসরি একনজরে দেখার পাশাপাশি আগামী দিনে সিলেটের জন্য তারেক রহমান কী কী উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রতিশ্রুতি আনবেন, তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

বেলা ১০টা ৫৪ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আম্বরখানা মসজিদের ইমাম তিলাওয়াত পরিচালনা করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। জিন্দাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আক্তার মিয়া বলেন, “আমরা দেখেছি তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড দেবেন। আরও কী কী দেবেন, সেটা জানতে চাই।”

সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য সুমন মিয়া রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন এবং আশায় বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশের জেলা সুনামগঞ্জ থেকে আসা দুলু মিয়া বলেন, তার এলাকার প্রধান সমস্যা বন্যা, যা সমাধানে তারেক রহমানের অভিজ্ঞতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও আশপাশে উপস্থিত হাজারো মানুষের মধ্যে নেতাকে ঘিরে প্রত্যাশার ছাপ স্পষ্ট। স্থানীয় চা বিক্রেতা জামাল মিয়া মঞ্চে না যেতে পারলেও মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, “আমরা নিরাপত্তা চাই, শান্তিতে চারটা ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে চাই।”

সিলেট তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক ও পারিবারিক আবেগ দৃঢ়ভাবে যুক্ত। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করেছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

এর আগে গত বুধবার রাত আটটায় তারেক রহমান আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরে শ্রদ্ধা জানান। রাতের বেলায় তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।