ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬ – কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্বস্তির জায়গা হলেও কেন্দ্রগুলোতে চলমান আর্থিক অনিশ্চয়তা তাদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে। গাজীপুরের জয়দেবপুরে মহিলা ও শিশু অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি কেন্দ্রের অভিভাবক লাবনী আক্তার জানাচ্ছেন, বকেয়া বেতন ও খাবারের যোগান নিয়ে কেন্দ্র পরিচালনায় অনিশ্চয়তা থাকায় তিনি প্রতিদিন উদ্বিগ্ন থাকেন।
গত ২৫ মার্চ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল, বকেয়া বেতনের কারণে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা কর্মবিরতি নেবেন। পরবর্তীতে আশ্বাসের ভিত্তিতে কার্যক্রম পুনরায় চালু হলেও সমস্যার পুরো সমাধান হয়নি। অভিভাবকরা জানান, খাবারের সরবরাহ স্থগিত হওয়া বা কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলে।
প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৪ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাখা হয়। শিশুরা তিন বেলা সুষম খাবার, বয়স উপযোগী খেলাধুলা, প্রাক-শিক্ষা এবং বিশ্রামের মাধ্যমে মানসিক ও শারীরিক বিকাশ পায়। প্রতিটি কেন্দ্রেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন।
প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে কেন্দ্রগুলোতে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা প্রায় ৮ মাস বকেয়া পড়ে আছে। এই কারণে কয়েকটি কেন্দ্র কর্মবিরতির আশঙ্কায় কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে ঠিকাদারদের এবং প্রকল্প পরিচালকের আশ্বাসে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও অভিভাবকরা এখনও শঙ্কিত।
শবনম মোস্তারী, প্রকল্প প্রধান, জানান, তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি বেতন শিগগিরই দেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন খাবারের সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা হয়। তবে কেন্দ্র পরিচালনার আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং বেতন-ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মজীবী অভিভাবকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিভাবকরা আশা করছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে, যেন তারা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন এবং শিশুরা নিরাপদে শিক্ষালাভ ও বিকাশে এগিয়ে যেতে পারে।