বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

দিনাজপুরে লিচুর মৌসুমে বেচাকেনার ধুম, কম দামে খুশি ক্রেতা-চাষি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে পুরোদমে শুরু হয়েছে লিচুর মৌসুম। জেলার বিভিন্ন বাগান, আড়ত ও বাজারে এখন জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বেদানা, মাদ্রাজি, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচু নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি বাগান ও বাজার থেকে লিচু সংগ্রহ করছেন।

দিনাজপুর শহরের কালিতলা নিউ মার্কেট, পুলহাট, মহব্বতপুর, সিকদারহাট, আউলিয়াপুর ও উলিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লিচুর কেনাবেচা চলছে। বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

স্থানীয় চাষিদের ভাষ্য, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর মান ভালো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই গাছ থেকেই আগাম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ফল। বাগানগুলোতে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে মাদ্রাজি লিচুর প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। বেদানা জাতের লিচু ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা, চায়না-৩ জাত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা এবং বোম্বাই জাত ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা কম হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। অনেকেই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য বড় পরিমাণে লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে লিচুর সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। দিনাজপুরের উৎপাদিত অধিকাংশ লিচুই দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৪১৮টি লিচু বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন। বসতবাড়ি ও বাগান মিলিয়ে জেলায় প্রায় সাত লাখ লিচুগাছ রয়েছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ফলনের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও লিচুর গুণগত মান, রং ও আকৃতি খুবই ভালো হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকলেও সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও চাঙা হবে বলে আশা করছেন তারা।