দেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বশীল আচরণের অভাবে এই শিল্প কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে পর্যটক ও উদ্যোক্তা—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে দি বাংলাদেশ মনিটর ও গ্যালাক্সি গ্রুপের যৌথ আয়োজনে আয়োজিত এক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা এখনো প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ দায়িত্বশীলতার অভাব। এটি যেমন পর্যটকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি যারা পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।”
তিনি সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ অঞ্চল নিয়ে যখন অপপ্রচার চলছিল, তখন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা যদি সময়মতো দায়িত্বশীল অবস্থান নিতেন, তাহলে এত বিতর্ক ও শোরগোল সৃষ্টি হতো না। একই ধরনের পরিস্থিতি সিলেটের সাদা পাথর ও হাওর এলাকাতেও দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, “আমরা সোনার ডিম পাড়া হাঁস থেকে একবারেই সব ডিম পেতে চাই। এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের পর্যটন শিল্পের জন্য ক্ষতিকর।” তিনি টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে দেশের ট্রাভেল, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৯টি ক্যাটাগরিতে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং ৮ জন ব্যক্তি এই সম্মাননা লাভ করেন।
এ বছর আতিথেয়তা খাতে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে অসামান্য অবদানের জন্য ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পান পাটা বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শহীদ হামিদ। গ্যালাক্সি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ জানান, দেড় শতাধিক মনোনয়ন থেকে জুরি বোর্ড যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্যদের নির্বাচন করেছে।
সম্মাননা পাওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ঢাকা, পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা কক্সবাজারসহ আরও বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য হোটেল ও রিসোর্ট।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সম্মাননার মূল লক্ষ্য হলো পর্যটন খাতের অংশীজনদের পেশাদারত্ব ও সেবার মান উন্নয়নে উৎসাহিত করা এবং দেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।