বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

থাইল্যান্ডে দুই গোলের লিডেও শেষ মুহূর্তে হার বাংলাদেশি নারী দলের

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

বাজলো রেফারির শেষ বাঁশি, আর বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার বক্সের মধ্যে শুইয়ে রইলেন। ডিফেন্ডার আফিদা খন্দকার তাঁকে দ্রুত উঠানোর চেষ্টা করলেন। মিলির মতো আরও অনেকে বিমর্ষ। দুই গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দলের আশা শেষ মিনিটে থাইল্যান্ডের তিন গোলের আঘাতে ভেস্তে গেল। ৩-২ ব্যবধানের এই পরাজয় শোকের ছায়া ফেলেছে নীল জার্সির প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর।

আজ (১ এপ্রিল) রাতের ম্যাচে বাংলাদেশের অ-২০ নারী দল প্রথমবার এশিয়ার মূল পর্বে খেলছে। প্রথমার্ধে মেধাবী ফুটবলার মোসাম্মৎ সাগরিকা একক প্রচেষ্টায় দুটি গোল করে লিড এনে দেন। দুই গোলের পরও বাংলাদেশের সমর্থকরা জয় আশা করছিলেন।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চরম ভুলের কারণে বাংলাদেশকে পেনাল্টি খেতে হয়। ডিফেন্ডার সুরমা জান্নাত ও নবীরন মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে থাইল্যান্ডের দুই ফরোয়ার্ডকে ফাউল করেন। দুটি পেনাল্টি থেকে থাইল্যান্ড গোল করে ম্যাচ সমতায় আসে। পরে থাইল্যান্ড আরও একটি গোল করে ৩-২ ব্যবধান গড়ে তোলে।

বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার হাই লাইন ডিফেন্স কৌশলে ম্যাচ শুরু করলেও থাইল্যান্ডের গতিশীল আক্রমণ এবং অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের চাপে ফেলে। ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ৩১ মিনিটে মহতী সাগরিকার ৪৫ গজ দূর থেকে করা দুর্দান্ত গোল। স্টেডিয়াম ও ডাগ আউটে প্রবাসী দর্শকরা আনন্দে মাতলেন।

ম্যাচে বাংলাদেশ যেকোনো সময় সমতা বা জয় পেতে পারত। মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী কিছু দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় বাংলাদেশ নারী দল থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানের পরাজয় মেনে নিতে হলো।

বাংলাদেশি নারী ফুটবল এখনো তরুণ ও অভিজ্ঞতার ব্যবধান পার হতে চায়, তবে এই ম্যাচ তাদের সম্ভাবনা ও প্রতিভার দিক উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছে।