বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তেল-গ্যাস খাতে শ্রমিকদের মুনাফার ৫ শতাংশ বাতিলের উদ্যোগ নাকচ, আবারও বৈঠকে বসছেন শ্রমিক নেতারা

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

তেল ও গ্যাস খাতে কর্মরত শ্রমিকদের আইনসম্মত মুনাফার অংশ বাতিল বা সীমিত করার প্রস্তাব শ্রমিক নেতারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকের মুনাফায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণের বিধান থেকে তাদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রেখে আগামী রোববার তেল-গ্যাস খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (টিসিসি)-এর স্থগিতকৃত ৯২তম সভা শেষে শ্রমিক নেতারা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সভা শেষে শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার বলেন, শ্রম আইনের পঞ্চদশ অধ্যায়ে মালিকের মুনাফা থেকে শ্রমিকদের অংশ দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল বা সীমিত করার লক্ষ্যে তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। শ্রমিক নেতারা সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে একটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অনুমোদনের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা শ্রমিক পক্ষ মানেনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষের প্রান্তে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও শ্রমিকস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন নয়। এজন্য শ্রমিক নেতারা মত দিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়া উচিত। তবে বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি ভালোভাবে পর্যালোচনার জন্য আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন তারা।

বাবুল আক্তার জানান, আগামী রোববার তেল ও গ্যাস খাতের দেশি ও বিদেশি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে প্রস্তাবটি শ্রমিকদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হলে তা বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় দেশি-বিদেশি সব তেল-গ্যাস কোম্পানির শ্রমিকস্বার্থবিরোধী অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো কোম্পানি লাভ করলে সেই লাভের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা। এই অর্থের ৮০ শতাংশ সরাসরি শ্রমিকদের মধ্যে সমান হারে বণ্টন করা হয়, ১০ শতাংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে এবং বাকি ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে জমা হয়। কিন্তু জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনা নতুন প্রস্তাবে শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত এই ৫ শতাংশ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, বিদেশি আটটি তেল ও গ্যাস কোম্পানি এই হার বেশি দাবি করে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। তবে এটি কেবল লাভজনক কোম্পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটি বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশ ওয়াকার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে আনা প্রস্তাব শ্রমিক নেতারা সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারণ আইনে স্পষ্টভাবে শ্রমিকদের মুনাফার অংশগ্রহণের বিধান রয়েছে, যা কোনোভাবেই খর্ব করা যায় না।

তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে। তবে আগামী বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।