রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মানব কঙ্কাল সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তার চারজনের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, তেজগাঁও থানার অভিযানিক দল ৯ মার্চ রাতে মনিপুরী পাড়ার একটি জায়গায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখতে পায়। অভিযানের সময় প্রথমে একজনকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি সম্পূর্ণ মানব কঙ্কাল উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে আরও অনেকেই এই সিন্ডিকেটে যুক্ত।
পরবর্তীতে অভিযানিক দল তেজগাঁও কলেজের সামনে আরও দুইজনকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজন স্টুডেন্ট, অন্য দুইজন নয়। প্রথম ব্যক্তি হলেন কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, সাপুরা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের শিক্ষার্থী। অন্যরা হলেন মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী (৩২)।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের মূলহোতা হলেন ফয়সাল আহম্মেদ। তারা অনলাইনে ‘বোম সেলিং’ নামে একটি গ্রুপ পরিচালনা করছে, যেখানে প্রায় ৭০০ কর্মী এবং ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন। উদ্ধারকৃত কঙ্কালগুলো তাদের ক্যাম্পাসের রুমে ৪৪টি অব্যবহৃত অবস্থায় রাখা ছিল।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন স্টুডেন্ট স্বীকার করেছেন, তারা কঙ্কাল ৬–৮ হাজার টাকায় কিনে ১৫–২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন। তাদের গ্রাহকেরা মূলত অন্যান্য মেডিকেল শিক্ষার্থী। মূলত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর এলাকায় কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলনের চক্র পরিচালিত হয়।
চক্রটি কবরস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে যেখানে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। উত্তোলিত কঙ্কাল কেমিক্যালের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং পরে ফিটিং করে বিক্রি করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চারজনকে আদালতে পাঠানো হবে। ডিএমপি আরও জানায়, অভিযান ও তদন্ত চলমান এবং চক্রের বাকিদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।