বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘তুরস্ক ছাড়া ইউরোপ অসম্পূর্ণ’ — ইউরোপ দিবসে এরদোয়ানের বার্তা

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যৎ কাঠামোতে তুরস্ককে তার ‘ন্যায্য স্থান’ না দিলে ইউরোপ দুর্বল ও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট Recep Tayyip Erdoğan। ইউরোপ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের জন্য তুরস্ক এখন অপরিহার্য অংশীদার।

শনিবার দেওয়া ওই বার্তায় এরদোয়ান বলেন, ৭৬ বছর আগে ঘোষিত শ্যুমান ঘোষণা শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তিই নয়, বরং শান্তি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন ইউরোপ গঠনের প্রতীক। তবে বর্তমানে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক নীতিগুলো কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ নীতির দিকে যেতে বাধ্য করছে। আর এই প্রক্রিয়ায় তুরস্ক একটি “অপরিহার্য ও অনস্বীকার্য অংশ” হিসেবে অবস্থান করছে।

এরদোয়ান আরও বলেন, তুরস্ক ইইউর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে পূর্ণ সদস্যপদের লক্ষ্যেও আঙ্কারা অটল রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের আন্তরিকতা দেখাবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আগেও বলেছি, তুরস্কের যতটা না ইউরোপীয় ইউনিয়নকে প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রয়োজন তুরস্ককে।” ভবিষ্যতে এই প্রয়োজন আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং অভিবাসন সমস্যার কারণে ইউরোপ বর্তমানে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে তুরস্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। তবে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রাসেলস ও আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্ক বারবার টানাপোড়েনের মুখে পড়ে।

ইউরোপ দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তার শেষ অংশে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইউরোপ ও তুরস্কের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সংহতি কামনা করেন।