বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দুই দেশের মধ্যে যৌথভাবে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে “টু প্লাস টু” (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও সম্মতি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে তুরস্কের সহায়তায় ড্রোন, সাঁজোয়া যান, ট্যাংক এবং ইলেকট্রনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পথ খুলতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

তবে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকে এখন পর্যন্ত সরাসরি প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। বরং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ কিছু বেসামরিক সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে উৎস বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি তুলনামূলক কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে তুরস্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে তুরস্কও বিশ্ব অস্ত্র বাজারে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। গত এক দশকে দেশটি ড্রোন প্রযুক্তি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদনে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং বর্তমানে শীর্ষ প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে ড্রোন সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি করেছিল বলে জানা যায়। এছাড়া আগেও বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে সাঁজোয়া যান, রাডার সিস্টেম, জ্যামার এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উৎপাদন বাস্তবায়ন হয়, তাহলে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতার দিকে একটি বড় ধাপ এগোতে পারে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, বিষয়টি শুধু সামরিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারের কৌশলগত অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।