পশ্চিম ইউরোপজুড়ে শুরু হওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেনের কোটি কোটি মানুষ চরম গরমে হাঁসফাঁস করছেন। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা খুবই কম, বরং আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক এলাকায় স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, এই তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
জার্মানিতেও তাপপ্রবাহ শুরু হলেও সেখানে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে মহাদেশীয় ইউরোপের মতো তাপমাত্রা না পৌঁছালেও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বসন্তকাল পার করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে। চলতি বছরের এই তাপপ্রবাহ অনেক দেশের জন্য দ্বিতীয় বড় তাপদাহ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও স্পেন ইতোমধ্যে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৬ সালের উষ্ণতম গ্রীষ্মের রেকর্ড ভাঙার ৪০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে চলতি জুন মাসেই।
ব্রিটিশ আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স ডিকিন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই তাপমাত্রার চরম ওঠানামা বাড়ছে। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মকাল আরও গরম এবং বর্ষাকাল আরও অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও তাপপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দারা গরম থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছেন। অনেকেই বাসে যাতায়াত কমিয়ে মেট্রো ব্যবহার করছেন। প্যারিসের বাসিন্দা প্যাট্রিসিয়া পিয়েরো বলেন, “বাসে ভ্রমণ এখন প্রায় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মেট্রো তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিদায়ক।”