শুক্রবার , ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তিস্তার ভাঙনে তিন দিনে বিলীন ৫০ ঘর, হুমকিতে দুই শতাধিক বাড়িঘর

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

‘মনটা খুবই খারাপ, শেষমেশ বাড়ি-ভিটাটাও তিস্তা নদীতে চলি গেল। কারো একনা জাগা পাইলে ঘর তুলি থাকনু হয়।’

কথাগুলো কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা মাঈদুল ইসলামের। নদীভাঙনে নিজের শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে গত তিন দিনে প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে একটি স্কুলসহ প্রায় দুই শতাধিক বাড়িঘর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে প্রায় ৬ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তীব্র স্রোতে সেগুলোর বেশিরভাগই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রাম দুটি একসময় মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার তীব্র ভাঙন চলছে। নদীর গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি বসতঘর, মসজিদ, ফসলি জমি ও হাজার হাজার গাছপালা। প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা ও আবাদি জমি।

চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বাড়া-কমার সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীর প্রবল স্রোত ও বাতাসের কারণে ভাঙন প্রতিরোধে ফেলা জিও ব্যাগও দ্রুত কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

ইতোমধ্যে মাঈদুল ইসলাম, ইয়াকুব আলী, মখলেছ, ফকরুল, শফিকুল, হাজির উদ্দিন, নাজির উদ্দিন, হান্নান, রবিউল, সোনা মিয়া, আব্দুল লতিফ ও মমিনুল ইসলামসহ প্রায় ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিনে তাদের গ্রামের প্রায় ২০টি ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। গ্রামের একমাত্র মসজিদটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন কোথায় যাবেন, সেই চিন্তায় দিশেহারা স্থানীয়রা।

তৈয়বখাঁ গ্রামের মমিনুল ইসলাম জানান, ঘরবাড়ি হারিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। নদীভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে তাদের বসতিও আর টিকবে কি না—এ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এদিকে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কাজ চলমান রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে আরও জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তিস্তার ভাঙনে আরও বহু পরিবার সর্বস্ব হারাবে।