সোমবার , ৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তিস্তার ভয়াল ভাঙনে নিঃস্ব দুই গ্রাম, ভিটেমাটি হারানোর শোকে বাবার মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেমাটি হারানোর শোকে তিন দিন পর মারা গেছেন চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আব্দুল কাদের (৬২)।

নিহত আব্দুল কাদেরের ছেলে কাফি বলেন, চোখের নিমিষেই নদী তাদের ভিটেবাড়ি গিলে খেয়েছে। চারটি ঘর কোনোমতে সরিয়ে নেওয়া গেলেও তিনটি আমগাছ ও একটি জামগাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা চর বিদ্যানন্দ ছেড়ে দক্ষিণ আনন্দ বাজার এলাকায় অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সরেজমিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে তিস্তার তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা এবং কৃষকের বাদাম, পাট, ভুট্টা, মরিচ, আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষেত। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত ১৫ দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ গ্রামের অন্তত ১৯টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দুই গ্রামের বাসিন্দারা তিস্তা পাড়ে মানববন্ধনও করেছেন।

ভাঙনকবলিত রোস্তম আলী জানান, এটি নিয়ে পাঁচবার তার বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবার আড়াই বিঘা জমির পাট ও আমনের বীজতলাও নদীতে হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদও ভাঙনের মুখে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে শিক্ষা কার্যক্রমসহ পুরো এলাকার জনজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা ইতোমধ্যে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেছে। চর বিদ্যানন্দ ও তৈয়বখাঁ গ্রামের ভাঙন এখন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জেলাজুড়ে প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন চলছে। গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি স্থানে প্রায় দুই লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা বাজেট না থাকায় সেখানে এখনো প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।