চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৩ হাজার ৪৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এলিট এই বাহিনী।
র্যাবের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুন, ধর্ষণ, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও জঙ্গিবাদসহ নানা অপরাধ দমনে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য
গত তিন মাসে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে।
- গ্রেপ্তার: ১,১১৫ জন মাদক কারবারি
- উদ্ধার:
- ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৯৬২ পিস ইয়াবা
- ৫,২৬৬ কেজি গাঁজা
- ২৪ কেজির বেশি হেরোইন
- বিপুল পরিমাণ মদ ও ফেনসিডিল
অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমন
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করে র্যাব:
- ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার
- গ্রেপ্তার: ১০৪ জন
এর মধ্যে ৯ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌথ অভিযানে ২২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়, যা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত।
হত্যা ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলায় তৎপরতা
- হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার: ৪৮৪ জন
- নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার: ১৭৪ জন
উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে র্যাব সদস্য ডিএডি মোতালেব হোসেন হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং ঝিনাইদহ ও নরসিংদীর আলোচিত মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান।
জঙ্গিবাদ দমনেও অভিযান
র্যাব জানায়, জঙ্গিবাদ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- ঢাকার সাভার থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি’র এক সদস্য গ্রেপ্তার
- সিলেট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ডেটোনেটর, পাওয়ার জেল ও গানপাউডার উদ্ধার
মানবিক কার্যক্রমও অব্যাহত
শুধু অপরাধ দমন নয়, মানবিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিল র্যাব। গত ২২ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে অপহৃত দুই বছরের শিশু ফুজাইলকে উদ্ধার করে অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, র্যাবের এই ধারাবাহিক অভিযান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিচ্ছে।