সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১০ জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী বেশ কিছুদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে ফেনসিডিল মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসছে। অতঃপর উক্ত মাদক ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইক্রোবাস যোগে সরবরাহ করছে। বিষয়টি জানতে পেরে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল উক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশীসহ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
গতকাল ১০ অক্টোবর ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ২০:১০ ঘটিকায় র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী দেশের পশ্চিমাঞ্চল হতে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্যের চালান নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর র্যাব-১০ এর উক্ত আভিযানিক দল ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন আব্দুল্লাপুর বাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহজনক গাড়ী তল্লাশী করতে থাকে। তল্লাশীর একপর্যায়ে একই তারিখ সময় আনুমানিক ২০.৫৫ ঘটিকায় সন্দিগ্ধ একটি মাইক্রোবাস মুন্সিগঞ্জের মাওয়ার দিক হইতে ঢাকার দিকে আসার পথে এক্সপ্রেসওয়েতে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মাওয়া হইতে ঢাকাগামী সার্ভিস লেনে নামিয়ে দেয় এবং দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে পালানোর চেষ্টা করে। অতঃপর র্যাবের উক্ত আভিযানিক দল মাইক্রোবাসটিকে একই তারিখ ২১.০৫ ঘটিকায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অবস্থিত রাজেন্দ্রপুর আন্ডারপাসের সামনে আব্দুল্লাহপুর হতে ঢাকাগামী সার্ভিস লেনের উপর আটক করে। উপস্থিত র্যাব সদস্যরা মাইক্রোবাসের ভিতরে থাকা চালক ও অপর ব্যক্তিদরেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা তাদের মাইক্রোবাসের ভিতরে ফেনসিডিল আছে বলে স্বীকার করে। পরবর্তীতে কর্তব্যরত র্যাব সদস্যরা বিধি মোতাবেক তল্লাশীকালে উক্ত মাইক্রোবাসের চালকের সিটের পিছনের সিটের আরোহীদের পা রাখার স্থানে থাকা আনুমানিক মূল্য ১১,৮৮,০০০/- (এগারো লক্ষ আটাশি হাজার) টাকা মূল্যমানের মোট ৩৯৬ (তিনশত ছিয়ানব্বই) বোতল ফেনসিডিলসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে । গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ১। মো. কামরুল হাসান @ রবিন (২৯), পিতা-মো. আবুল কাওসার, সাং-২৮/এ/৪৬/১, ফায়ার সার্ভিস, থানা-গেন্ডারিয়া, ঢাকা, ২। মো. সেলিম মোল্লা (৩৫) (চালক), পিতা-মো. বাবুল মোল্লা, সাং-পঞ্চসার জিয়সতলা, থানা-মুন্সিগঞ্জ সদর, জেলা-মুন্সিগঞ্জ, ৩। মো. ফারাবী ইসলাম (২৫), পিতা-মো. নুরুজ্জামান, মাতা-মোছা. রহিমা বেগম, সাং-বাউরিয়া, থানা-গলাচিপা, জেলা-পটুয়াখালী বলে জানা যায়। এ সময় তাদের নিকট হতে মাদক বহনে ব্যবহৃত ০১টি মাইক্রোবাস জব্দ ও ০৫টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১১,০০০/- ( এগার হাজার টাকা) উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামীরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা বেশ কিছুদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা হতে ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে ঢাকার কেরাণীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রুজু করতঃ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।