বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দক্ষিণ ভারতের জনগণ। জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক নেতা থালাপতি বিজয় অল্প সময়ের মধ্যেই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। রোববার (১০ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

এরইমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিজয় সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি নতুন যুগের সূচনা।

গত সোমবার প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৩৪টি আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ১০৮টি আসনে জয় পায় বিজয়ের দল TVK। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে ভারতীয় কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং আরও কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমর্থন পেয়ে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় থালাপতি বিজয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। এ সময় তিনি জোটসঙ্গীদের সমর্থনের চিঠিও জমা দেন।

রাজ্যপাল বিভিন্ন দলের দেওয়া সমর্থনপত্র যাচাই-বাছাই করেন। বিশেষ করে Indian Union Muslim League (আইইউএমএল) এবং অন্যান্য দলগুলোর দেওয়া সমর্থনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের নেতৃত্বে সরকার গঠন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ প্রায় ৬০ বছর পর প্রথমবারের মতো রাজ্যে DMK এবং AIADMK-বিহীন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দলই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল।

চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয়তা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করা বিজয় ইতোমধ্যেই তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।

আজকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চেন্নাই শহরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকা এবং হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।