বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঢোল-বাদ্য ও রঙিন মোটিফে ঢাবিতে বর্ণিল বৈশাখী শোভাযাত্রা, উৎসবে জনস্রোত

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষের অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন বৈশাখী শোভাযাত্রা। ঢোল-বাদ্যের তালে এবং রঙিন মোটিফের বর্ণিল সাজে সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে উৎসবের ঢল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকাল থেকেই চারুকলা প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোভাযাত্রায় অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী, যারা জাতীয় পতাকা বহন করেন। পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢোল, ঢাকসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে লোকঐতিহ্য ও প্রতীকধর্মী মোটিফ। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এছাড়া মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়াকে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

শোভাযাত্রার মূল বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় ভবিষ্যতের পথে অগ্রযাত্রা। চারুকলার শিক্ষার্থীরা বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি কাঠামোয় শেষ মুহূর্তে রঙের কাজ সম্পন্ন করেন।

শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথে পরিচয়পত্র যাচাই, ক্যাম্পাসে মুখোশ ও কিছু সামগ্রী নিষিদ্ধ, এবং সিসিটিভি ও আর্চওয়ে স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে।

নববর্ষ উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আরও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে, যা পুরো পরিবেশকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।