শুক্রবার , ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকার ৪১৬ বছর উদযাপনে ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা চাইল ডিএসসিসি

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি ও ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব আয়োজন করতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতিষ্ঠানভেদে সর্বনিম্ন ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত স্পন্সরশিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক এ আয়োজন। ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং নগর ব্র্যান্ডিংকে বিশ্ব দরবারে নতুনভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ মেগা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ডিএসসিসি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। গত ১৩ জুলাই পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো অর্থের অঙ্ক উল্লেখ করা না হলেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিষ্ঠানভেদে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত স্পন্সরশিপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আপত্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ব্যাংকের অর্থ মূলত আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ। ফলে যেকোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা এবং সিএসআর নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো সরকারি সংস্থার অনুরোধ এলেই এ ধরনের অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়।

তাদের মতে, সরকারি সংস্থা হিসেবে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব আয়ের উৎস রয়েছে। উৎসব আয়োজনের প্রয়োজন হলে সেই ব্যয় নিজস্ব অর্থায়ন থেকেই করা উচিত।

এর আগে ১৩ জুলাই নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ‘হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসবের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই ভোরে অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র‍্যালি’। একই দিন বিকেলে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি ও পালকিসহ ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ নিয়ে বর্ণাঢ্য ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’ হওয়ার কথা রয়েছে।

১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’-এর ভোরে অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’। বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

২ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় কাওয়ালীসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীতে খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠান প্রচার, শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিপণিবিতানগুলোতে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং সদরঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌযানে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু হয়। অন্যদিকে ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১ আগস্টকে ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ডিএসসিসির লক্ষ্য।

প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে প্রশাসক জানান, দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব আয়োজন করা হবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে কর্মসূচির সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।