বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডেল্টা হেলথকেয়ারের চিকিৎসকসহ ৫ জন কারাগারে

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরার ডেল্টা হেলথকেয়ার হাসপাতালের সামনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে পড়েছিলেন রিকশাচালক মো. ইসমাইল। হামাগুড়ি দিয়ে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য সাহায্যের আকুতি জানান তিনি। কিন্তু হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা দরজা খোলেননি, চিকিৎসাও দেননি। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সিঁড়ির ওপরেই প্রাণ হারান ইসমাইল।

সহমর্মিতা জানিয়ে অনেকে সেই ছবি শেয়ার করেন। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে ডেল্টা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে সে সময় দায়িত্বপালন করা একজন চিকিৎসকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক হিরণ মোল্লা তাদেরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ভিকটিম ইসমাইল (৪৬) ঘটনার দিন ১৯ জুলাই বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায় রামপুরার ডেল্টা হেলথ কেয়ারের প্রবেশ পথের সিঁড়িতে পড়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে গেলেও তাকে কোনো ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয় নাই। পরে তিনি বিনা চিকিৎসায় সেখানে মৃত্যুবরণ করে। অভিযান চালিয়ে এই পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করি। মামলা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ঘটনার সময় ডেল্টা হেলথ কেয়ারে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তারা ইসমাইলকে কোনো প্রকার প্রাথমিক চিকিৎসা দেন নাই। ভিকটিমের মৃত্যুর জন্য তাদের অবহেলা পরিলক্ষিত হয় মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন-ডেল্টা হেলথকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদি বিন শামস, মার্কেটিং অফিসার হাসান মিয়া, মেইনটেনেন্স বোরহান উদ্দিন, সিকিউরিটি গার্ড ইসমাঈল ও নাজিম উদ্দিন।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ইসমাইল আলী গুলিবিদ্ধ হন। মামলার আসামিদের অস্ত্রের মহড়ার কারণে তিনি চিকিৎসা নিতে পারেননি। স্ত্রী লাকি বেগম হুমকির কারণে লাশটা পোস্ট মর্টেম করতে পারেননি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর লাকি বেগম হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।