বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডেনমার্ক নয়, তেহরানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যাচ্ছেন ঢাবি ভিসি নিয়াজ আহমদ? এগ্রিমোতে ইরানের সম্মতি

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে তাকে ইরানে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তেহরানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়াজ আহমদের নিয়োগ প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠানো হয়েছে এবং ইরান সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, তেহরান নতুন রাষ্ট্রদূতকে গ্রহণে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাঠিয়েছে। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, “এগ্রিমো এতদিনে চলে আসার কথা। হয়তো চলে আসছে।”

ডেনমার্ক থেকে ইরান—পরিকল্পনায় পরিবর্তন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথমে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদকে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার জন্য এগ্রিমোও পাঠানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ডেনমার্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একেএম শহীদুল করিমকে ঢাকায় ফেরানোর প্রস্তুতিও নেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে কোপেনহেগেন থেকে সম্মতির অপেক্ষা শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। পরে বিকল্প হিসেবে তেহরানের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়। বর্তমানে ইরানে রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকায় সেখানে নিয়াজ আহমদকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং নতুন করে এগ্রিমো পাঠানো হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অনাগ্রহের ইঙ্গিত

কথিত আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্যকে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দিতে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে তেহরানে দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে নিয়াজ আহমদের অনাগ্রহ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিষয়টি তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করেছেন বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ইরান প্রায়ই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে তেহরানকে কূটনৈতিকভাবে একটি সংবেদনশীল পোস্টিং হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নতুন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন মন্ত্রিসভার অগ্রাধিকার ও কূটনৈতিক নীতির ওপর নির্ভর করবে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদের চূড়ান্ত পোস্টিং।

ভিসি পদ ছাড়ার ইঙ্গিত

এদিকে, সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার চাইলে কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতে রাজি আছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

বর্তমানে তেহরানে বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত না থাকায় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কমার্শিয়াল কাউন্সেলর রাবেয়া সুলতানা।