আল্লাহভীরু নেতৃত্ব দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা আব্দুল হালিম, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও প্রশাসনের ‘ডিপস্টেট’ মিলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম-এর বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ ব্লক’ মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সম্মানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আব্দুল হালিম বলেন, রোজা মানুষকে আত্মশুদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে এবং আল্লাহভীতি গড়ে তোলে। যারা আল্লাহকে ভয় করে তারা কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে না। তিনি বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা এবং মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত করা।
তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনের পর সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান-এর বক্তব্য এবং সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান-কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার ঘটনাই তাদের অভিযোগের প্রমাণ।
রোজার গুরুত্ব তুলে ধরে আব্দুল হালিম বলেন, রমজান মাস কুরআন নাজিলের মাস হওয়ায় এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র যদি কুরআনের শিক্ষা ধারণ করে, তবে তা মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকার দলীয় চিফ হুইপ যখন বলেন তারেক রহমান ২০৩৭ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন, তখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয় যে বিএনপি-ও আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে।
তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, আওয়ামী লীগের পথে হাঁটলে তাদেরও একই পরিণতি হতে পারে। জনগণের রায় মেনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডা. আতিয়ার রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং ডা. মো. শাহাদাত হোসেন-এর সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে ডা. মুসলেহ উদ্দিন ফরিদ-সহ বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।