বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

“ডিজিটাল যুগ ও জুলাই প্রজন্ম: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গি”

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। তিনি বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূস উল্লেখ করেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছিল, ঠিক তেমনি ডিজিটাল খাতও তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। তিনি বলেন, “ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত, কারণ এখান থেকেই পরিবর্তন আসবে এবং অন্যান্য খাতও প্রভাবিত হবে।”

তিনি নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বলেন, যদিও কাগজে কলমে ডিজিটাল ব্যবস্থা আছে, বাস্তবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি মনে করেন, সরকারকে কেবল একটি সিস্টেম তৈরি করে জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, এবং জনগণ নিজেদের মতো করে তা ব্যবহার করবে।

শিক্ষা খাতে ডিজিটালের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ২,৫০০ স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টি স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যেখানে শিক্ষক নেই, সেখানে ইন্টারনেটই প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারবে।

চাকরি এবং উদ্যোক্তা বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, “সবার জন্য চাকরি নিশ্চিত করার ধারণা একটি ভুল। এটি এক ধরনের দাস প্রথার অংশ। সরকারকে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি চাকরি করা উচিত নয়, কারণ দীর্ঘ সময়ে মাইন্ডসেট স্থির হয়ে যায় এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। তিনি প্রস্তাব দেন, প্রতি ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে শুরু করা উচিত।

ড. ইউনূস জালিয়াতি বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রযুক্তিতে এগোতে হলে জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে পারব।”

সংক্ষেপে, ড. ইউনূসের বক্তব্যে উঠে এসেছে জুলাই প্রজন্মের নেতৃত্ব, ডিজিটাল খাতের গুরুত্ব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষায় প্রযুক্তি ও জালিয়াতি নির্মূলের প্রয়োজনীয়তা।