বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়তে উপজেলা পর্যায়কে শক্তিশালী করতে হবে: ফয়েজ তৈয়্যব

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে রাজধানীকেন্দ্রিক উদ্যোগের বাইরে এসে উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য উপজেলা পর্যায়ে আইসিটি সেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাকক্ষে ইডিসি (EDC) প্রকল্পের আওতায় দেশের ১০০টি উপজেলায় স্থাপিত উপজেলা সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ইতোমধ্যে দেশের ১০০টি উপজেলায় এসব কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও ১৭৯টি উপজেলায় কেন্দ্র স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত আইসিটি কর্মকর্তাদের কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অফিস স্পেস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের আইসিটি দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় আইসিটি সহায়তা প্রদান করা হবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, আইডিয়া, স্টার্টআপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন জাতীয় প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এসব কেন্দ্র সারা বছর কার্যকর রাখা হবে। তাই অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি এর সঠিক ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, ৪০০টি উপজেলায় কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০৩টি কেন্দ্র সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে আজ ১০০টি কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে রোলআউট করা হলো। এসব কেন্দ্র স্থানীয় জনগণ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ কক্ষ, স্টার্ট-আপ জোন এবং প্লাগ অ্যান্ড প্লে জোন থাকবে। স্টার্ট-আপ জোনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ডিভাইসসহ একসঙ্গে অন্তত ২০ জন উদ্যোক্তা বা ফ্রিল্যান্সার কাজ করার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞাসহ আইসিটি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।