বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ডাক্তারহীন ৫ বছর: রাজবাড়ীর মা-শিশু হাসপাতালে থেমে গেছে সিজার সেবা, বাড়ছে ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

রাজবাড়ীর ২০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতালটি গত পাঁচ বছর ধরে কার্যত চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে। গাইনী ও শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন, ব্যাহত হচ্ছে প্রসূতি সেবা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী মা ও তাদের স্বজনরা।

১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটি একসময় প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। মাসে ৩০-৪০টি সিজার ও ৫০-৬০টি স্বাভাবিক প্রসব হতো এখানে। কিন্তু ২০২১ সালে গাইনী চিকিৎসক বদলি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নতুন কোনো চিকিৎসক পদায়ন হয়নি। ফলে বর্তমানে সিজারিয়ান সেবা পুরোপুরি বন্ধ, আর স্বাভাবিক প্রসবও সীমিত হয়ে পড়েছে।

হাসপাতালে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় তা অচল। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও বন্ধ রয়েছে চালক না থাকায়। রোগী কমে যাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ড ও বেডগুলো পড়ে আছে প্রায় ফাঁকা অবস্থায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে, যেখানে সিজারের জন্য অতিরিক্ত ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, গাইনী চিকিৎসক না থাকাই রোগী কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়ন না হলে এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নছর মোহাম্মদ কদর উদ্দীন বলেন, হাসপাতালটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।