বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে শায়িত মা-ছেলে

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় গাইবান্ধার একই এলাকার মৃত পাঁচজনের মধ্যে মা নার্গিস বেগম (৪২) ও ছেলে নিরবের (১২) পাশাপাশি কবরে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে মধ্য নিজপাড়া গ্রামে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে এই এলাকার মৃত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের দাফন সম্পন্ন হলো।

মৃত নার্গিস বেগম (৪২) ও তার ছেলে নিরব (১২) ওই এলাকার হামিদুজ্জামানের স্ত্রী ও সন্তান।

জানাজা নামাজে ইমামতি করেন নিহত নার্গিসের স্বজন আব্দুল মোত্তালিব। এর আগে একইদিন দুপুর ১২টার দিকে সুলতান মাহমুদের (২৮) জানাজার পর দাফন হয়। সুলতান মাহমুদ পূর্ব নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।

নিহতদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে নার্গিস তার ছেলে নিরবসহ (১২) নিজপাড়া থেকে মাদারহাটে যান। সেখান থেকে একটি রিজার্ভ বাসে করে রাত ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় তারা সবাই একই বাসে ওঠেন।

পরে তাদের বাস টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর নামক স্থানে পৌঁছালে তেল শেষ হয়ে যায়। পরে তারা বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসে পড়েন। এ সময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

তারা আরও জানান, নিহত নার্গিস, সুলতান মাহমুদ ও রিফা আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। ঈদ উপলক্ষে তারা সবাই গ্রামে এসেছিলেন এবং বড় ছেলের বিয়েতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই আনন্দ মুহূর্তই পরিণত হলো শোকে।

মৃত অপর দুইজন হলেন- দোলা বেগম (৪৫) ও রিফা রেসা (২৪)। দোলা বেগম একই ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী ও নিহত নার্গিসের বিয়াইন (ছেলের শ্বাশুড়ি)। এছাড়া রিফা রেসা মধ্য নিজপাড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে। মৃত সুলতান মাহমুদ ও রিফা চাচাতো ভাই বোন।