বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কিছু চমকে দেওয়া জয়

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঝেমধ্যেই ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অঘটনের সাক্ষী হয়েছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তি ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্টে খেললেও সহযোগী দেশ ও আন্ডারডগ দল তাদের নির্ভীক পারফরম্যান্স করে চমক দেখিয়েছে। আর এই চমক দেখানো জয়গুলো বিশ্বকাপকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন পাঁচটি অঘটনের দিকে ফিরে তাকানো যাক-

প্রথমবার বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথম আসরেই বাজিমাত। ২০ ওভারে পাকিস্তান ৭ উইকেটে করেছিল ১৫৯ রান, বাবর আজম ৪৪ ও শাদাব খান করেন ৪০ রান। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে নসথুশ কেনজিগে ৩০ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট।

জবাবে পাকিস্তানের মোট সংগ্রহ ছুঁয়ে ফেলে আমেরিকা। ৩ উইকেটে ১৫৯ রান করে। মোনাঙ্ক প্যাটেল ৩৮ বলে ৫০ রান করে বড় ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ১ উইকেটে করে ১৮ রান। পাকিস্তান মাত্র ১৩ রান করতে পারে। তাতে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ রানের অবিস্মরণীয় জয় পায়।

নামিবিয়া বনাম শ্রীলঙ্কা, ২০২২

২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মন জুড়ানো পারফরম্যান্স করে নামিবিয়া। জিলংয়ের সাইমন্ডস স্টেডিয়ামে ৫৫ রানে তারা হারায় শ্রীলঙ্কাকে। জ্যান ফ্রাইলিঙ্কের ৪৪ ও জেজে স্মিথের অপরাজিত ৩১ রানে ৭ উইকেটে ১৬৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কা বোলার প্রমোদ মাদুশান ২ উইকেট নেন ৩৭ রানে।

জবাবে শ্রীলঙ্কা চাপে পড়ে ব্যাটিং ধসের মুখোমুখি হয়। ১৯ ওভারে ১০৮ রানে অলআউট তারা। অধিনায়ক দাসুন শানাকা সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন। নামিবিয়ার বোলিং আক্রমণে ডেভিড উইজ, বার্নার্ড স্কল্টজ, বেনব শিকোঙ্গো ও জ্যান ফ্রাইলিঙ্ক সমান দুটি করে উইকেট নেন।

আফগানিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৬

২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নাগপুরে ওই সয়ের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটেছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ রানে হারিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। আগে ব্যাটিং করে তারা ৭ উইকেটে মাত্র ১২৩ রান করেছিল। নাজিবুল্লাহ জাদরান ৪০ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। স্যামুয়েল বদ্রি ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন, ১৪ রানে নেন ৩ উইকেট।

রান তাড়া করতে নেমে বিপদে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা। ৮ উইকেটে ১১৭ রানে থঅমে তারা। ডোয়াইন ব্রাভোর ২৮ রান ছিল সর্বোচ্চ। মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান দুটি করে উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ে অবদান রাখেন।

আফগানিস্তান ২০২৪ বিশ্বকাপে আরেকটি বড় অঘটন ঘটায়। সেন্ট ভিনসেন্টে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারায়। রহমানউল্লাহ গুরবাজের ৬০ ও ইব্রাহিম জাদরানের ৫১ রানের সৌজন্যে ৬ উইকেটে ১৪৮ রান করে আফগানরা। প্যাট কামিন্স অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ২৮ রান খরচায়।

জবাবে অস্ট্রেলিয়া গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের একার লড়াইয়ে জিততে পারেনি। এই ব্যাটার ৫৯ রান করেন। গুলবাদিন নাইব ও নাভিন উল হকের তোপে ১৯.২ ওভারে ১২৭ রানে অলআউট হয় অজিরা। গুলবাদিন ২০ রানে চার উইকেট নেন এবং নাভিন পান তিনটি।

বিশ্বকাপের শুরুতে অন্যতম অঘটন। ২০০৯ সালে লর্ডসে ইতিহাস গড়েছিল নেদারল্যান্ডস। ইংল্যান্ডকে তারা হারায় ৪ উইকেটে। ৫ উইকেটে ইংলিশরা করেছিল ১৬২ রান। ৪৯ বলে লুক রাইট ৭১ রান করে ভূমিকা রাখেন। রায়ান টেন ডেসকাট বোলিংয়ে ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।

জবাবে নেদারল্যান্ডস শেষ বলে লক্ষ্য ছোঁয়। টম ডি গ্রুথ ৪৯ রান করেন এবং পুরো ব্যাটিং লাইন আপ ছোট ছোট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। জেমস অ্যান্ডারসনের ২৩ রান খরচায় ৩ উইকেট বিফলে গেছে। ডাচরা পেয়ে যায় ঐতিহাসিক জয়।