টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, গ্রহণযোগ্য নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ও চিফ রিপোর্টাররা। একই সঙ্গে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার বিকাশে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর ও চিফ রিপোর্টারদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব দাবি উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ডিআরইউকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য পৃথক ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতার নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার ও অপসাংবাদিকতার বিস্তার প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে লাইসেন্স প্রদানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, মূলধারার সাংবাদিকতা বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার এবং ভূইফোঁড় সাংবাদিকতার বিস্তার ঠেকাতে স্বচ্ছ নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, সাংবাদিকদের ঈদের ছুটি পাঁচ দিনে উন্নীত করার ক্ষেত্রে সংগঠন সফল হয়েছে। এখন সাপ্তাহিক দুই দিনের ছুটি নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রবেশ পর্যায়ের সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় টেলিভিশন সাংবাদিকরা আধুনিক ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ জোরদার, এআইভিত্তিক সাংবাদিকতার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংবাদ সংগ্রহে ভিডিও ফুটেজ সরবরাহের ব্যবস্থা, সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল শক্তিশালীকরণ এবং মোবাইল সাংবাদিকতার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।
এ ছাড়া অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন তারা। বক্তারা মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর, চিফ রিপোর্টার এবং ডিআরইউর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের মানোন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।