বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

টাঙ্গাইলে নদী পুনঃখনন শুরু, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বললেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ২ মে, ২০২৬

টাঙ্গাইলে নদী পুনঃখনন উদ্বোধন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Sultan Salauddin Tuku বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিনি মন্তব্য করেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার আর এ সরকার এক নয়। বিএনপি যা বলে, তাই করে—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”

শনিবার (২ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের খুদিরামপুর এলাকায় Dhaleshwari RiverLohajang River পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই দুই নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার হলে এলাকার পরিবেশ, কৃষি এবং জীববৈচিত্র্যের উন্নয়ন ঘটবে। “আজ আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করেছি,”—বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, নদীর মূল জায়গা অনুযায়ীই খনন কাজ পরিচালিত হবে। নদীর তীর বা প্রবাহপথে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দখল করে থাকে, তাহলে প্রশাসন তা উচ্ছেদ করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নদী ও খাল আমাদের দেশের প্রাণ। এগুলোকে পুনর্জীবিত করা মানে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ—সবকিছুর উন্নয়ন নিশ্চিত করা।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশব্যাপী খাল ও নদী পুনঃখনন কর্মসূচি চালু করেছেন, যা এখনো চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একইভাবে নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ এগিয়ে চলছে, যা ভবিষ্যতে দেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ধলেশ্বরী ও লৌহজং নদীর মোট ৫২.৯২ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য প্রায় ৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, বন্যা ঝুঁকি কমবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।